farheenancy@gmail.com

আফগানিস্তানঃ সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের কবরস্থান যেখানে!

 

আফগানিস্তানঃ সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের কবরস্থান।

বর্তমানে আফগানিস্তানের অবস্থা ১৭৫৭ সালের বঙ্গের মত, যার কিছু স্বার্থান্বেষী মহল দেশকে বিকিয়ে দিয়েছিল ইংরেজদের হাতে! আর, শাসনপাঠ বুঝিয়ে দিয়েছিল এই বহিরাগত শক্তিকে। তেমনি, আজকের আফগানিস্তানও শাসন করছে, মার্কিনি মদদপুষ্ট সরকার, যারা বহু পূর্বেই দেশের খনিজ সম্পদ তুলে দিয়েছিল পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে!

আফগানিস্তানের মোট ৩৪ টি প্রদেশ রয়েছে। হিন্দুকুশ পর্বতমালা আফগানিস্তানে অবস্থিত।ইরান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান ও চীনের সাথে আফগানিস্তানের সীমান্ত রয়েছে। এর নিজস্ব কোনো সমুদ্রবন্দর নাই। পাকিস্তানের সাথে আফগানিস্তানের সীমান্তরেখা ডুরাল্ড লাইন নামে পরিচিত।

আফগানিস্তানের প্রধান জাতিগোষ্ঠী হচ্ছে পাশতুন যা মোট জনসংখ্যার ৪০%। অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে উজবেক ২৫%, তাজিক ১৫% এবং হাজারারে ১০%। ৮৫% লোক দারী ভাষায় কথা বলে যা ইরানের ফার্সি ভাষার একটি সংস্করণ। সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকার, সমগ্র ভারতবর্ষ দখল করে নিলেও, আফগানিস্তান দখল কর‍তে পারে নি। তিনবার যুদ্ধ করেও রিক্ত হাতে ফিরে যেতে হয়েছে ইংরেজদের। ১৯১৯ সালে শেষবার যুদ্ধ করে ব্রিটিশরা পরাজিত হয় আর আফগানিরা এই চার মাসের যুদ্ধে জিতে যায়। আফগানিস্তানের শিক্ষার হার মাত্র ৩১% আর দরিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করে প্রায় এক কোটিরও বেশি লোক যা প্রায় মোট জনসংখ্যার ৪২%। পশ্চিমা মদদপুষ্ট আফগানিস্তানের সরকার গত ১৫ বছর ধরে দুর্নীতিতে শীর্ষস্থানে অবস্থান করে। বিপুল লিথিয়াম খনিজ ও পেট্রোলিয়াম তেলে সমৃদ্ধ সম্ভাবনাময় দেশ হওয়া সত্ত্বেও আফগানিস্তান দরিদ্রতম দেশ, যার কারন এর অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের রাজনীতি। পরপর, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সর্বশেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরাজিত হয় মুজাহিদীনদের ভূমিতে! তাই তো, একে পরাশক্তিদের তথা- পাশ্চাত্যবাদ, সাম্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ- সকল আইডলজির কবরস্থান বলা যেতে পারে।

১৯৮৯ সালে সোভিয়েত রাশিয়া আফগানিস্তানের ভূমি ছেড়ে দেবার পরে, আফগানিস্তানে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা লাভ করা নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। যার ফলে, আফগানিস্তানে দুবার গৃহযুদ্ধ সংগঠিত হয়। প্রথমবার যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৯২-১৯৯৬ বিভিন্ন মুজাহিদীন দলের মধ্যে,যারা এতদিন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে লড়েছিল।

দ্বিতীয় বার গৃহযুদ্ধ বাঁধে তালেবান সরকার আর অন্যান্য গোত্রীয় ও ধর্মীয় উপদলের মধ্যে সেটা স্থায়ী হয়েছিল ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত।

পছন্দ মত সরকার প্রধান বসিয়েও রাশিয়ানরা আফগানিদের সমর্থন আদায় করতে পারছিল না। তারাকীকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করলেও, তার দূরদৃষ্টির অভাবে তিনি বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, তার দলের সমন্বয়হীনতা। আমিনের সাথে মতানৈক্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার রাজনৈতিক জীবনের!

সেসময়, তাজিক আর উজবেকি জনগোষ্ঠীর সমর্থন পাবার জন্যে তারাকি সোভিয়েত সরকারকে অনুরোধ জানান যেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যে কিছু উজবেকি ও তাজিক সৈন্য যেন পাঠানো হয়। তিনি, ভেবেছিলেন যে, এভাবে উজবেকি আর তাজিক সৈন্যদের ঐ বিশিষ্ট জনগোষ্ঠী সহযে গ্রহণ করবে, আর বিদ্রোহ দমনে তা ভূমিকা রাখবে। কিন্তু, এদিকে এ সিদ্ধান্তটি হিতে বিপরীত ফল আনে কারন
পশতুনরা ভাবতে থাকে যে তাদের আধিপত্য হ্রাস করার জন্যে সোভিয়েত পুষ্ঠ সরকার এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই, বিদ্রোহ গ্রহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।

অপরদিকে, আমিন ব্রেজেনেস্কির প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সোভিয়েতদের প্রিয় তারাকিকে হত্যা করে,সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠলে, কেজিবি তাকে সি আই এ এর এজেন্ট ভেবে সন্দেহ করায়, তাকেও একই ভাবে গোপন অভিযানে প্রাণ হারাতে হয়। কারন ছিল, পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক উন্নোয়নের প্রয়াস চালানো আর তাদের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন। অকাট্য প্রমান না থাকা সত্ত্বেও কেজিবি তাকে মার্কিন সি আই এর সদস্য ভাবতে থাকে, কারন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করেছিলেন আর সি আই এ ঐসময়ে তাকে আর্থিক সহায়তা করেছিল। তাই, সোভিয়েতদের পরামর্শ উপেক্ষা করেও পশ্চিমা নীতি প্রণয়ন, বিদ্রোহী ও বিরোধী দলকে শক্তভাবে দমন পীড়ন চালানো ও বন্দি করা ও সর্বশেষ তাদের বাধা সত্ত্বেও তারাকিকে হত্যা করা- এসবই সোভিয়েত সরকারকে ক্ষেপিয়ে তুলে আর তার মৃত্যুর অলিখিত ফর্মান জারি হয়ে যায়।

সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পরে গোত্রীয় কোন্দল বেড়ে যায়, এবং বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে, বিভিন্ন দল উপদলের গৃহযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে তালেবানের জন্ম হয় এবং একদম ক্ষমতার শীর্ষে চলে যায়।

**তালেবানের জন্ম**

আফগানিস্তানের অস্থির সময়ে দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে জন্ম নেয়া এক শিকড়ের নাম তালেবান যা বর্তমানে এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে।

 
মাত্র ৫০ জন মাদ্রাসা ছাত্র নিয়ে তালেবান গঠন করেন মোল্লা ওমর, যার দলগত আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে হাজার হাজার তরুণ যোগদান করা শুরু করে তালেবানে। শুধুমাত্র তালেবানকে প্রতিহত করতে আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠায় মার্কিন সরকার, কিন্তু দীর্ঘ ১৯ বছরের যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে অবশেষে শান্তি চুক্তি করতে বাধ্য হয় তাদের সাথে।

তবে, শুধু কি আল কায়দাকে সমর্থন করার জন্যে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাকি এর পেছনে ছিল কোনো বৃহৎ উদ্দেশ্য?

১৯৯৪ সালে বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাব সৃষ্টিকারী সংগঠন  তালেবান গঠন করেন মোল্লা ওমর। মোল্লা ওমর সশরীরে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আফগান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এযুদ্ধে, তিনি একটি চোখ হারান। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে, তিনি করাচীর বিনুরী মসজিদে ইমামতি করার সময়ে ওসামা বিন লাদেনের সাথে পরিচিত হোন। পরে, তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। যদিওবা অনেকে মনে করে থাকেন যে, আল কায়দা ও তালেবান আসলে একই প্রতিষ্ঠান কিন্তু আদতে দুটি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান । আল কায়দা প্রতিষ্ঠা করেন ওসামা বিন লাদেন। তবে, এখনো তালেবান ও আল কায়দার মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান।

তালেবানের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সৈন্যদের পরাজিত করে, দেশে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা  কায়েম করা। আর, সোভিয়েত বিরোধী তালেবানদের অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করত পাকিস্তান ও আমেরিকা। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন পিছু হঠতে বাধ্য হয় আর দুর্বল নাজিবুল্লাহ সরকারের পতন ঘটে ১৯৯২ সালে। কিন্তু, এরপর পরই মুজাহিদীনরা বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েন আর সমগ্র দেশে  জাতিগত বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে, কারন আফগানিরা অনেক জাতি যেমন উজবেক, পশতুন, তুর্কি, তাজিক, আর্মেনিয়,শিয়া হাজারারে, নানান দলে উপদলে  বিভক্ত আর ক্ষমতার লড়াই ও আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে ছিল চরম কোন্দল! এমতাবস্থায়, এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে মোল্লা ওমর তালেবান প্রতিষ্ঠা করেন।সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ করা হত বিভিন্ন মাদ্রাসা ও শরণার্থী শিবির থেকে।

গৃহযুদ্ধ পরবর্তীকালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে যায় তালেবান।খুব দ্রুত একটি বড় সংগঠনে পরিণত হয়। দেশের স্বার্থে বিভিন্ন জাতিগত বিদ্বেষ মিটিয়ে একটি একক ও অভিন্ন সম্প্রীতির দেশ তৈরি করার লক্ষ্যে সবাইকে এক করে, চূড়ান্ত  ক্ষমতায় আরোহন করতে ব্যর্থ হোন মোল্লা ওমর।

১৯৯৪ সালের নভেম্বরে কান্দাহার প্রদেশ ও পরের বছর সেপ্টেম্বরে হেরাত দখল করে নেয় তালেবান। এরপর, ১৯৯৬ সালে রাজধানী কাবুল দখল করে পরের বছর অর্থাৎ, ১৯৯৭ সালে আফগানিস্তানকে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র ঘোষণা করে তালেবান।

আরব দেশের মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও আরব আমিরাত আফগানিস্তানকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। যদিও, তখনও দেশের কিছু কিছু অংশে গৃহযুদ্ধ চলমান। তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পরে দেশে চালু করে ইসলামি শরীয়া আইন এবং তারা কট্টরপন্থী ইসলামি চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিল যা পশ্চিমারা ভালো চোখে দেখে নি। তারা, আফগানিস্তানে তাদের বাণিজ্যিক ক্ষতি হবার সমূহ সম্ভাবনা টের পায়। যার জন্যে, তারা তালেবানদের পশ্চিমা গণমাধ্যমে জঙ্গী বলে আখ্যায়িত করতে থাকে। তারা,প্রোপাগাণ্ডা ছড়াতে থাকে যে তালেবান আফগানিস্তানে নিজেদের মত চাপিয়ে দিচ্ছে সাধারণের উপর আর বিরোধীদের উপর দমন পীড়ন নীতি চালাচ্ছে।

৯/১১ এর ঘটনায়, আমেরিকা সম্পূর্ণভাবে আল কায়দাকে দোষারোপ করে কোনো ভিত্তি প্রমাণ ছাড়াই। আর, তখন ওসামা বিন লাদেন তালেবানদের আশ্রয়ে ছিলেন। তাই, জর্জ বুশ ক্ষিপ্ত হয়ে মোল্লা ওমরকে সময় বেঁধে দেন যেন তালেবান লাদেনকে মার্কিনিদের হাতে সোপর্দ করে।কিন্তু, মোল্লা ওমর ওসামা বিন লাদেনকে তাদের হাতে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান।যদিও, প্রপঞ্চবাদের মতে, বিশ্বে এই ধারণা অনেক জনপ্রিয় যে ভিয়েতনামের গলফ অফ টনকিনের মত টুইন টাওয়ারের ঘটনাটিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাজানো ছিল, যেন এই অযুহাতে তারা তালেবান ও আল কায়দাকে শায়েস্তা করতে পারে। এক ঢিলে দুই পাখি মারা নীতি যাকে বলে আর কি! 

টুইন টাওয়ারের ঘটনার পরপরই আমেরিকা ওসামা বিন লাদেনকে ফিরিয়ে দেয়ার অযুহাতে আফগানিস্তানের বিরদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। তুমুল যুদ্ধ বাঁধে তালেবান ও মার্কিন ন্যাটো জোটের সাথে। অতর্কিত আক্রমণে তালেবানরা পিছু হঠলেও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নি , বরং সময়ের সাথে সাথে তারা আরো জনবল নিয়ে টেক্কা দিয়েছে মার্কিনি আগ্রাসনের।

আফগানিস্তানে এখনো সক্রিয় আছে প্রায় ৬০০০০ এর মত তালেবানরা এবং দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ অংশে তারা ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে।

আফগানিস্তানের বিভিন্ন খনিজ সম্পদ আছে যা থেকে তারা খনিজ সম্পদ আহরণ করে ও রপ্তানি করে আর্থিক চাহিদা পূরণ করে। তবে, তালেবানদের অদূরদর্শী  ঝটিকা আক্রমণে অনেক নিরপরাধ জনসাধারণ মারা গিয়েছেন। পরপর কয়েকটি বিচ্ছিন্ন বোমা হামলায় নিহত হন নারী, শিশুসহ নিষ্পাপ জনতা। তাই, স্বয়ং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে তালেবানদের চলনবিধি সন্দেহজনক চোখে দেখা হয়।

২০০১ সালের আফগান-মার্কিন যুদ্ধের শুরুর দিকেই মোল্লা ওমরকে ধরার জন্যে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয় সি আই এ। মোল্লা ওমর তখন থেকেই আত্মগোপনে থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন। ২০১৩ সালে যক্ষায় আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। পরবর্তীতে জানা যায় যে, একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অদূরেই তিনি বসবাস করতেন, মার্কিনিদের একদম নাকের ডগায়!

২০২০ সালের ২৯ ফ্রেব্রুয়ারি, কাতারের দোহায় এক ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে মার্কিনিরা তালেবানদের সাথে। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এ যুদ্ধের অবসানের জন্যে এ চুক্তিকে ঘিরে রয়েছে নানান আলোচনা সমালোচনা।

** কি আছে এই চুক্তিতে**

১. বর্তমানে আফগানিস্তানে বিদ্যমান ৫৪০০ জন সেনাকে প্রত্যাহার করে নিবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

২. যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সামরিক, বেসামরিক, আধা সামরিক, ঠিকাদার ও উপদেষ্টা সহ সকল বিদেশিদের আফগানিস্তান থেকে আগামি ১৪ মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে।

৩. তবে, তালেবানরা শর্ত দিয়েছিল যে ১৩৫ দিনের মধ্যে যদি আট হাজারের কিছু অধিক সৈন্যদের দেশ থেকে সরিয়ে নেয় তবেই তারা মার্কিনিদের সাথে শান্তি চুক্তি আলোচনার বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে। যা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে বাধ্য হয়।

৪. এই চুক্তি বলে মার্কিন সরকার প্রথমে আট হাজার ও পরে তের হাজার সৈন্য সরিয়ে নিবে কিন্তু আবার যেকোনো উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা রাখে।

কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত এই শান্তি চুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ হতে বিশেষ প্রতিনিধি  জার্মাই খলিল আজাদ ও তালেবানের উপপ্রধান মোল্লা গনি বারবার চুক্তিতে সই করেন। এ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিনিধি ও উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিল।

এ শান্তি চুক্তির মাধ্যমে তালেবানদের সাথে সরকার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আলোচনার পথ উন্মুক্ত হলো। তবে, সে আলোচনা মোটেই সহয নয়, কারন তালেবানদের ইসলামি শরীয়া আইন আর আধুনিক আফগানিস্তানের গনতন্ত্রের প্রশ্নে উভয় পক্ষই আপোসহীন। নারীদের অধিকার কেমন হবে বা দেশের শাসন ব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে তালেবানরা স্পষ্ট নয়।

এসব মতবিরোধ দূর হবে,আদতে যখন আন্তঃআফগান আলোচনা শুরু হবে৷ কিন্তু, আলোচনায় বসার আগে তালেবান তার পাঁচ হাজার যোদ্ধার নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করে। পক্ষান্তরে,  আফগান সরকার এই যুদ্ধবন্দীদের পণ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, সুবিধা আদায় করার জন্যে।

এছাড়াও, দেশটিতে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আব্দুল্লাহ ঘানি ও তার প্রতিপক্ষ আবদুল্লাহ এর মধ্যে বিরোধ যে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে, তন্মধ্যে এ ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হবার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এক আফগান উপদেষ্টা এক্ষেত্রে মন্তব্য করেছেন যে প্রক্রিয়াধীন হলেও, এ আন্তঃ আফগানিস্তানের আলোচনা হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যেতে পারে, যেকোনো একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

** আফগান যুদ্ধে আমেরিকার স্বার্থ কি ছিল?**

২০০১ সালে টুইন টাওয়ার ধ্বংস হবার পরে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা ওয়ার অন টেরর আরম্ভ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কনস্পিরেসি থিওরিস্টদের মতে, আফগানিস্তানের যুদ্ধ ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং সম্পুর্ন বাণিজ্য কেন্দ্রীক।

১৯৯৫ সালে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবানদের দখলে তখনও আসে নি, কিন্তু দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কান্দাহার তালেবানদের দখলে এবং সেখানে তাদের কর্তৃত্ব অলঙ্ঘনীয়।  কান্দাহারের গভর্ণর তখন তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমর। সেবছর এক কুয়াশা ঘেরা সকালে, অপ্রত্যাশিত ভাবে তার সাথে দেখা করেন ছয় ফুট উচ্চতার ককেশিয় কার্লোস বুলখরেনি। এই সুদর্শন হলেন, আর্জেন্টিনার তেল-গ্যাস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বিরদাস কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি মধ্য এশিয় দেশগুলোতে তেল গ্যাস খনিজের উত্তোলন, সরবরাহ ও রপ্তানি নিয়ে কাজ করছিলেন।

 
মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তানে প্রাপ্ত গ্যাস ও তেল মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে আসার পাইপ লাইন তৈরি করা নিয়ে  তখন তারা ব্যস্ত। কিন্তু, এ পাইপলাইনটি পাকিস্তান ও ভারতে নিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন আফগানিস্তানকে। কিন্তু আফগানিস্তান তখন রাজনৈতিক কোন্দলে পর্যদুস্ত। নানান দল,দেশের নানান অংশ তখন নিয়ন্ত্রন করছে। একদিকে কাবুলে রব্বানী সরকার, কান্দাহারে মোল্লা ওমরের তালেবান, আর অন্যদিকে যুদ্ধে লিপ্ত মস্কোপন্থী নজিবুল্লাহর অনুগত আব্দুর রশিদ দস্তামোর। রশিদরা তৎপর, গুরত্বপূর্ণ এলাকা দখলে।

তাই, কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এসেছেন সব গুলো গভর্ণরের কাছে। কারন, একেক বাহিনীর অন্তর্গত একেকটি অঞ্চল। কিন্তু, তালেবান প্রধান বিরদাসকে কোনো সুখবর দেন নি।আর, বিরদাস কর্পোরেশন প্রধানও তালেবানদের একা ছেড়ে দিতে উৎসুক নন,কারন ইতোমধ্যেই তারা আঁচ পেয়েছে যে তালেবানরাই পরবর্তীতে আফগানিস্তানের মুলধারার শক্তি হবে।

আফগানিস্তান এমনই একটি দেশ, যেখানে রূপকথা হার মানায়। কারন, এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে, রাজপরিবারের সদস্যরা রাজাকে সরিয়েছে, কমিউনিস্টরা কমিউনিস্টদের মেরেছে আর উজবেক, তাজিকরা পশতুনদের তাড়িয়েছে। আবার, পশতুনরা হত্যা করেছে উজবেক, হাজারাদের! এখানে, রুশদের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে মুজাহিদীনরা, আবার পরে নিজেরাই যুদ্ধে শরীক হয়ে খুনাখুনি করেছে! দিনে যদি কাবুল চালাত এক দল তবে রাতের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিত অন্য দল। এটা, আসলেও রূপকথাকে হার মানায়!

কান্দাহারের বৈঠক শেষ করে কাবুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন কার্লোস। কাবুলে রব্বানী সরকার হতে আফগান ভূমি ব্যবহারের অনুমতি লুফে নেন বিরদাসের চেয়ারম্যান। গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের গ্রিন সিগন্যাল আগেই পাওয়া গেছে মাঝহারে যুদ্ধে লিপ্ত দোস্তামের কাছ থেকে!!

 
তাহলে, পথের কাঁটা কি তালেবান?

আর্জেন্টিনার কোম্পানি বিরদাস এ অঞ্চলে পদার্পন করার আগেই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যায়, আর জন্ম হয় মুসলিম অধ্যুষিত  তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, আজারবাইজান  সহ আরো ১৫ টি রাষ্ট্রের‍্! এতগুলো মুসলিম রাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভের একটাই মাত্র কারণ এই আফগান যুদ্ধ! কারন, সোভিয়েতরা বরাবরের মত মুসলিমদের সৈনিক হিসেবে ব্যবহার করছিল যুদ্ধে অনেকটা জোর খাঁটিয়ে আর হাজার হাজার মুসলমান সৈনিক মারা যাচ্ছিল আর সেসব অঞ্চলে তৈরি হয়েছিল যুদ্ধবিধৌত কারনে কৃত্রিম দারিদ্রতা, সংকট ও অরাজকতা৷

এদের মধ্যে মধ্য এশিয়ার স্তান সম্বলিত দেশগুলোতে অঢেল খনিজের সন্ধান পায় পশ্চিমা গবেষণা সংস্থা গুলো।  তাতে দেখা যায়, কাস্পিয়ান সমুদ্র অঞ্চলের তীরবর্তী দেশগুলোতে তেলের মজুদ আছে ১৫০ এর কিছু বেশি ব্যারেল তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ আছে প্রায় ২৩৬ ট্রিলিয়নের উপরে!

 এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খনিজ সম্পদ মজুদ আছে কাজাখস্থান, আজারবাইজান ও তুর্কমেনিস্তানে।এই কারনে পরবর্তী সময় গুলোতে এসব অঞ্চলে এক ডজনের চেয়েও বেশি বিদেশি কোম্পানি আসে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্যে!

প্রথমে তুর্কমেনিস্তানের উপরে বিরদাশের নজর পড়ে। ১৯৯২ সালের ১৩ জানুয়ারি সেদেশটির সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে বিরদাশ কর্পোরেশন। যেটার পরিকল্পনায় ছিল, কোম্পানিটি গ্যাস রপ্তানি করবে দক্ষিন এশিয় দেশ ভারত ও পাকিস্তানে৷ কিন্তু, এ গ্যাস চালান দেয়া হবে পাইপলাইনের মাধ্যমে মধ্যবর্তী দেশ ইরানকে বাদ দিয়ে! তাইতো, আফগানিস্তান-পাকিস্তান ৭৫০ কি.মি পাইপলাইনের প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয় যা পাকিস্তানের মুলতান হয়ে গুয়াদর  পর্যন্ত বিস্তৃত হবার কথা ছিল। পরবর্তীতে, একই পাইপলাইন দিয়ে ভারতের দিল্লীতেও গ্যাস সরবরাহের কথা ছিল এই করপোরেশনের।

কিন্তু, পরবর্তীতে এমনটা কেউ কস্মিনকালেও ভাবে নি যে এই অঞ্চলে কর্তৃত্ব স্থাপন করা নিয়ে বিরদাশ বিরোধে জড়িয়ে পড়বে মার্কিন সমর্থিত কোম্পানি ইউনিকলের সাথে! ১৯৯৬ সালে কার্লোস পাকিস্তানের তৎকালীন  প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও তুর্কমেনিস্তানের শাসক সাফাদ মুরাদ নেওয়াজফকে জানান যে আফগানিস্তানের সর্বস্তরের যুদ্ধবাজ নেতারা এই পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে। কাবুলের রব্বানী সরকারের সাথে ত্রিশ বছর মেয়াদি চুক্তি করে বিরদাশ। এই প্রকল্পের আওতায় আফগানিস্তানে পাইপলাইন তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ করবে বিরদাস ও গ্যাসের কিছু অংশ আফগানিস্তানে সরবরাহের কথা ছিল। রব্বানী সরকার সেই সাথে ট্রানজিট ফি হিসেবে পাবে  বার্ষিক ১৫০ মিলিয়ন ডলার।

এত বড় প্রজেক্ট বাস্তবায়নে যেকোনো ধরণের ঝুঁকি এড়াতে অন্যান্য মাল্টিবিলিয়নিয়ার কোম্পানির সাথে শেয়ার হোল্ডিং এর জন্যে বৈঠকে বসে বিরদাস যার মধ্যে ইউনিকলও অন্যতম ছিল। এটি, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম কোম্পানি ছিল। তুর্কমেনিস্তানের সাথে ইউনিকল যোগাযোগ করেছিল ১৯৯৫ সালে। তুর্কমেনিস্তানের শাসক অধিক মুনাফা লাভ ও মার্কিন বিনিয়োগ পাবার আশায় মার্কিন কর্পোরেশন ইউনিকলকে কাছে টেনে নেন এবং বিরদাসের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু, কিছু মাস অতিক্রম করতে না করতেই টেক্সাসের একট মামলায় বিরদাস, ইউনিকলের কাছে হেরে যায় আর একরকম লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায়।

এরপর, ইউনিকল এককভাবে কাস্পিয়ান সাগরের তেল গ্যাস রপ্তানি করার দায়িত্ব ও এই অঞ্চলে কর্তৃত্ব স্থাপনে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠে। কিন্তু, মার্কিনি বাণিজ্যিক জোটের চক্ষের শূল ছিল তালেবানরা। কারন, তারা শুধুমাত্র ভারতে তেল গ্যাস  রপ্তানির ট্রানজিট হতে চায় নি বরং আফগান অবকাঠামো তৈরিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এবং আফগানিস্তানকে একটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হোক, সেটি দাবী করেছিল। এবং, পাইপলাইনের বিপরীতে স্বীকৃতি আদায়ের এই চাপে মার্কিনিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তালেবান সরকারকে হুমকি দেয় বোমা মেরে উড়িয়ে দেবার। তবুও, হাল না ছেড়ে দেওয়ার বান্দা তালেবানরা যেকোনো রকম সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানালে পরের ঘটনা গুলো আজ বিশ্ববাসীর সামনে!

কেবলমাত্র, টুইন টাওয়ারের হামলাই নয়, বরং পর্দার পিছনের এই বিরোধগুলি উস্কে দিয়েছিল বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এই প্রক্সি ওয়ারের!

অবশ্য এই বাণিজ্যিক বিরোধিতাকে আফগান-মার্কিন যুদ্ধের অন্যতম কারন হিসেবে একদম তুড়ি মেরে হাওয়ায় উড়িয়ে দেয়া যায় না! কারন, এরপরেই দেখা যায় যে মার্কিন সমর্থিত যে পুতুল সরকার আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসে, সেই হামিদ কারজাই ও এর পরের প্রেসিডেন্ট  জালমিক হালিলজাদও ছিলেন আফগান ভূমিতে ইউনিকলের উপদেষ্টা!

  তেল গ্যাস বাণিজ্যের এই বিরোধের ঠিক মাস দেড়েক পরেই ৯/১১ এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফগানিস্তানের বহুজাতিক রাজনীতির বিরুদ্ধে মার্কিনিদের যুদ্ধে জড়িয়ে মোটেও বিচ্ছিন্ন অথবা অলৌকিক ঘটনা নয়!

**আফগান যুদ্ধে মার্কিনিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান**

আল কায়েদার শীর্ষ নেতাদের তালেবানরা লালন করছে এই অযুহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে ২০০১ সালে অভিযান চালায়। এ যুদ্ধে মার্কিনিদের সামরিক ক্ষতির সাথে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমান ছিল মাত্রাতিরিক্ত।

প্রথম দুই বছরে এক লাখ সৈন্যদের জন্য যুদ্ধ ব্যয় দাঁড়ায় একশ বিলিয়ন ডলার! মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য মতে, ২০০১ থেকে ২০১৯ সালে পর্যন্ত স্থায়ী এ যুদ্ধে সামরিক খাতে ব্যয় দাঁড়ায় ৭৬৮ বিলিয়ন ডলার!এছাড়াও, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্যান্য সংস্থার সাথে মিলে পুনঃর্নিমানে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার খরছ করেছে! সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে ২৫০০ সৈন্য মারা যায় আর প্রায় ৬০০০০ এর মত সৈন্য আহত হয়েছে এবং প্রায় এক ট্রিলিয়ন অর্থ খরছ হয়েছে!

যার জন্যে, এই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয় এবং জনজীবনের অর্থ – সামাজিক পিছুটান নিয়ে আসে। কারন, সামরিক খাতে ব্যয় বেশি হওয়ার দরুন মার্কিন জনজীবনের উন্নোয়নে ব্যয় কমিয়ে ফেলা হয় যা হিতে বিপরীত ফলাফল বয়ে আনে সেদেশটিতে। উপরন্তু,  করোনার চপেটাঘাতে মুখ থুবড়ে পড়ে মার্কিন প্রশাসন ও ট্রাম্প সরকার!

পরিশেষে, আফগানিস্তানের জনগন দীর্ঘ একশ বছরে একের পরেক নৈরাজ্য ও যুদ্ধের পরে অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতার পরে, কিছুকাল একটু স্থিরতা ও শান্তির অবকাশ চায়। সেই, শান্তির পায়রা আদৌ তাদের আকাশে উড়ে আসে কিনা সেটাই দেখবার আকাঙ্ক্ষা রইল!

লেখিকাঃ ফারহীন ন্যান্সি।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 

Reflections

A decade went lamenting for you, A decade spent ranting about you, A series of decade has gone by blaming

Emancipation

Faulty stars in the sky leading to a faulty love story—well, stars were not deformed. It was our own fault—a

Racing Hearts

It was nice to know you. It’s a pleasure to meet you.  It’s sweet to kiss you.  But it’s horrendous

Addiction

You were not my love. You were merely just an addiction,  Talking with you over the phone, Fighting over

Circles

Love was a priority then. Happiness was destiny. But now love is not predestined. Sometimes it’s a mistake. But mistakes

Sabotage

I was standing on the brink of a montage. But you always end up bringing about sabotage! I overcame the