farheenancy@gmail.com

প্রথম ইঙ্গ-চীন যুদ্ধ।

 

দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার এক বিশাল অংশ জুড়ে চীনের অবস্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চীনের দক্ষিনে পার্বত্য অঞ্চল, উত্তরে পীত নদীর অববাহিকায় সমভূমি আর মধ্য চীনে ইয়াংসি নদী। পীত নদীর বার্ষিক অববাহিকায় সমভূমি উর্বরতা লাভ করে, তবে মধ্যচীন ততটা উর্বর নয়। দক্ষিন চীন আরো অনুর্বর। চীনের পূর্ব উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।

তবে, এ দুই অঞ্চল আকরিক খনিজ সম্পদে ভরপুর। 

চীনের ইতিহাস হচ্ছে প্রাচীনকাল হতে আধুনিক কাল পর্যন্ত মুক্তির ইতিহাস। সভ্যতা ও সংস্কৃতির ইতিহাসের সাপেক্ষে চীন হচ্ছে প্রাচীনতম। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রাক্কালে চীন ছিল বিশ্বে সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য। বর্তমান চীনের থেকেও তার অধিকৃত অঞ্চল ছিল বহু অঞ্চল বিস্তৃত। সাইবেরিয়ার উস্থর পর্বত পর্যন্ত বিস্তারিত-তিব্বত, আধুনিক মঙ্গোলিয়া সহ অনেক অঞ্চল চীনের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রতিবেশি সাম্রাজ্যগুলোঃ কোরিয়, এনাম, ব্রক্ষ্মদেশ, নেপাল ও মধ্য এশিয়ার শেখ শাসিত অঞ্চল তখন চীনের সম্রাটকে নজরানা পাঠাত।

চীন নামটি এসেছে চৌ বংশের (খ্রিষ্টপূর্ব ১১২২- ২৪৯) একটি করদ রাজ্য ‘চীন’ থেকে। চীন সাম্রাজ্যে বহু জাতির বসবাস-  তাতার,তিব্বতি, চৈনিক, মোঙ্গলীয়, বর্মী, সান, মাঞ্চু প্রভৃতি জাতি-উপজাতির সংমিশ্রণে। চীন একটি ঐতিহ্যবাহী দেশ অর্থাৎ নিজ দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি,জ্ঞান, আবিষ্কারকে সার্বজনীন মনে করা এবং তাকে শ্রেষ্ঠ মনে করে বহিঃ প্রভাব থেকে মুক্ত থাকাই হলো ঐতিহ্যবাদের উদ্দেশ্য। মার্কো পোলো হতে শুরু করে ভলতেয়ার সকলেই এ কথা স্বীকার করেছেন যে চীনারা বহিঃনিয়ন্ত্রণের শেকল হতে সর্বদাই স্বতন্ত্র থাকার চেষ্টা করেছে।

চীনের স্বাভাবিক জীবন দর্শন অদ্বৈতবাদ ও সৃষ্টিশীলতাকে অস্বীকার করেছে, বরং তারা বেঁছে নিয়েছে ইয়াং এবং ইন এর ধারণাকে, যার মতে, সমস্ত সৃষ্টি জগতে দুটি বিপরীতমুখী শক্তি কাজ করে -যেমন, নারী-পুরুষ, চন্দ্র-সূর্য, সাকার-নিরাকার,রাত-দিন, সক্রিয়-নিষ্ক্রিয় প্রভৃতি। এই টানাপোড়েনের দ্বন্দ হতে সভ্যতার সৃষ্টি। বস্তুত, ধারণা করা হয় দ্বন্দের ইতিহাস বা এই টানাপোড়েনের ধারণা চীনা সংস্কৃতির সৃষ্টি। ঐতিহ্যবাদের এমনতরো প্রভাবের জন্যে চীনারা বাইরের স্পর্সদোষ বা সংমিশ্রণ হতে সচেষ্ট ছিল। বহিঃশক্তির প্রভাবে তাদের সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়বে ভেবে পশ্চিমা সভ্যতা ও জাপানের আগ্রাসন ও প্রভাব থেকে তারা নিজেদের মুক্ত রেখেছিল।

তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে,
১৭৯৩ খৃষ্টাব্দে চিয়েন লুং রাজত্বের সময়ে ব্রিটিশ প্রতিনিধি লর্ড ম্যাকার্টনি ব্রিটেন রাজের শুভেচ্ছা দিতে চীনে আসেন কিন্তু জবাবে চিয়েন লুং ব্রিটেন রাজকে একটি চিঠি দেন যাতে তিনি বলেন, ব্রিটিশ বর্বরদের সাথে তিনি আমদানি মূলক কোনো ব্যবসা করতেই রাজি নন, কারন তার স্বর্গীয় রাজ্যে সবই উৎপাদিত হয় প্রচুর পরিমানে এবং তিনি কেবলি একজন প্রজাপালক। তাই, দুষ্প্রাপ্য এবং অমুল্যবান সম্পদের নামে বহিঃবিশ্বের সাথে বিশেষ করে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যেসুলভ সম্পর্কের কোনো দরকার নেই, কারন তার নিজ দেশই তখন অঢেল সম্পত্তি ও প্রাচুর্যে ভরপুর।

চীনে দাসসমাজের উপস্থিতিও ছিল কিন্তু তার স্থায়িত্ব স্বল্পমেয়াদী ছিল। যা শ্যাং রাজত্বের সময়কালেই আবদ্ধ ছিল। কারন, সেসময় থেকেই যুদ্ধবন্দীদের দাস হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়ে যায়, কিন্তু এ দাসত্ববাদী শাসন শেষ হয়ে যায় দ্রুত আর আদি সামন্তবাদ শুরু হয়ে যায় একাদশ শতাব্দীতে যার স্থায়িত্ব ছিল ঐতিহাসিক আফিম যুদ্ধ(১৮৩৯)  পর্যন্ত। কারন, এ যুদ্ধের পরপরই সামন্তবাদী চীন আধা সামন্তবাদী আধা ঔপনিবেশিক চীনে পরিণত হয়। আপাতদৃষ্টিতে, আধা সামন্তবাদী আধা ঔপনিবেশিক চীন আফিম যুদ্ধ হতে নয়া গনতান্ত্রিক বিপ্লব পর্যন্ত অর্থাৎ,  ১৮৩৯-১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ইতিহাস। ঐতিহাসিকগণ,  আফিম যুদ্ধকেই চীনের সামন্তবাদী যুগ ও আধুনিক যুগের বিভাজক রূপে সাব্যস্ত করেছেন। কেননা, এরপরই চীন আধা ঔপনিবেশিক রূপে অবতীর্ণ হয়।

**প্রথম আফিম যুদ্ধ, নানকিং চুক্তি ও অন্যান্য**

চীনের ইতিহাসে প্রথম ইঙ্গ চীন যুদ্ধ বিশেষ গুরত্বপূর্ণ।  পরপর দুটি ইঙ্গ চীন যুদ্ধ (১৮৩৯-১৮৪২) এবং (১৮৫৬- ৫৮) সংঘটিত হয় এবং দুটিতেই চীন পরাজিত হয়। আফিমের চোরাচালানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ দুটি সংঘটিত হয়েছিল বলে আফিমের যুদ্ধ নামেও পরিচিত।

**প্রথম আফিম যুদ্ধ**

ব্রিটেন আমেরিকা সহ পশ্চিমা বণিকরা চীনের সঙ্গে  দ্বিমুখী বাণিজ্য করার জন্যে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। কনফুসীয় আদর্শে ও তাওবাদে বিশ্বাসী চীন তাং যুগ থেকেই নিজেদের বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। চীন হলো স্বর্গরাজ্য এবং তারা হচ্ছে আদিমতম শ্রেষ্ঠ জাতি- এ ধারণায় তারা বিশ্বাসী ছিল। যার জন্যে তারা পশ্চিমাদের বর্বর মনে করত আর তাই বর্বর পশ্চিমিদের সাথে কোনো রকম দ্বিমুখী বাণিজ্য স্থাপনে তারা অপারগ ছিল।

যদি কেউ চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখতে চায় তবে তাকে মাঞ্চু সরকারের মর্জি মত চলতে হবে এবং করদ রাজ্য হিসেবে সাব্যস্ত হবে। এজন্যে, পশ্চিমি বণিকদের নিয়মিত চীনা সরকারের কাছে নজরানা পাঠাতে হতো এবং সম্রাটের সাথে সাক্ষাতের সময় কুর্ণিশ করে ‘কাউটাউ’ প্রথায় আনুগত্য স্বীকার করতে হতো। যা ছিল পশ্চিমাদের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক ও অস্বস্তিকর। 

এছাড়াও, মাঞ্চু সরকার একমাত্র ক্যান্টন বন্দর ব্যতীত অন্যান্য বন্দর গুলো বিদেশীদের জন্য নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। ক্যান্টন বাণিজ্য ছিল একমুখী।অর্থাৎ, চীনারা কিছু আমদানী করত না, কারন তারা ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই, চীনা রেশম চা ও চীনামাটর দ্রব্য ক্রয় করতে তাদের ইউরোপীয় বণিকদের প্রচুর খরছ করতে হতো। পশ্চিমা শক্তি গুলো, ক্যান্টন বাণিজ্য দ্বিমুখী করার জন্যে নানাবিধ চেষ্টা চালিয়েও বার বার ব্যর্থ হচ্ছিল।

ইতিমধ্যে, ১৮১৫ সালের ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়ন পরাজিত হলে ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন বাঁক নেয়। ভিয়েনা চুক্তিতে ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। কারন, এই যুদ্ধে ব্রিটেন জয়ী হলে একক শক্তিতে পরিণত হয় আর চীনের দিকে এবার মনোনিয়োগ করে। ব্রিটেন ভাবতে থাকে নতুন দুরভিসন্ধি। শুধু কি ব্রিটেনই পণ্য ক্রয় করতে থাকবে আর চীনের কাছে ব্রিটেনের রুপো খসাবে!? ব্রিটেনও এবার আমেরিকাকে সঙ্গে নিয়ে চীনে আফিমের চোরাচালান শুরু করে দিল। আফিম প্রাচীনকাল হতেই চীনে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে কিন্তু ঔষধি গুনাগুনের জন্যে। কিন্তু, আফিমকে নেশাজাত দ্রব্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় তা জানা ছিল না চীনাদের। এবার,হলো বাজিমাত! টনে টনে রৌপ্য মুদ্রা খসে যেতে লাগল ব্রিটেনের নাবিকদের পকেটে, পেটরায় পেটরায় আফিমের চালান বিক্রি হতে থাকল চীনে।

ফলে, চীন সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে এবং চীনাদেরকে নৈতিক অধঃপতনে গ্রাস করে! যার ফলে, তরুন সমাজ নেশায় বুঁদ হয়ে যেতে থাকে আর আর্থিকভাবে অসচ্ছল হতে থাকে এবং সমাজে নানান বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে থাকে। এ আফিম ব্যবসায়, বিটিশরা ব্যাপকভাবে লাভবান হতে থাকে, ১৮৩৮ সালে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শুধুমাত্র আফিম বিক্রি করেই তিন কোটি টাকা আয় করে! চীন থেকে ক্রয় করা চায়ের মুল্য পরিশোধ করা হতে ভার‍ত হতে চালানকৃত আফিম দিয়ে। এবং, ব্রিটিশ সরকার অন্যায়ভাবে ক্যান্টন থেকে রপ্তানি করা চায়ের উপর কড়া মুল্যের শুল্ক আরোপ করতে লাগল। এই, পরিস্থিতিতে মাঞ্চু সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

আফিম চালান বন্ধ করতে মাঞ্চু সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ গুলো হলো,

১. বিদেশি জাহায চীনে ঢুকতে পারবে না।
২. বিদেশি ফ্যাক্টরি গুলো অস্ত্র সস্ত্র রাখতে পারবে না।
৩. প্রতিটি ফ্যাক্টরিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মচারী থাকবে।
৪. বিদেশিদের যাবতীয় জাহায ও নৌকা চীনা সরকারের কাছে রেজিস্ট্রি করার নির্দেশ থাকবে।

এরপরও, যখন চোরাচালান বন্ধ করা গেল না তখন লি সে সু নামের এক রাজকর্মচারীকে নিয়োগ দেয়া হলো ক্যান্টনের কমিশনার হিসেবে। লিনের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে গ্রেপ্তার, বাজেয়াপ্তকরণ আর মহারানীর কাছে পত্র প্রেরণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।

কিন্তু, ১৮৩৯ সালের ২৪ শে মার্চ লিন এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন। বিদেশি কুঠির ও ফ্যাক্টরি অবরোধ করা হলো। প্রায়, ২১০০০ পেটি বেআইনি পেটি উদ্ধার করে তা প্রকাশ্যে পুড়িয়ে দেয়া হলো।

এরপরের ঘটনাগুলো দ্রুত ঘটতে থাকে।

১৮৩৯ সালের ১২ই জুলাই ক্যান্টনের ম্যাকাওয়ের একজন চীনা গ্রামবাসীকে হত্যা করে এক ব্রিটিশ নাবিক। এই, ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কমিশনার লিন অপরাধীদের আত্মসমর্পণ এর আদেশ দেন। কিন্তু, তারা তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু, ব্রিটিশ প্রতিনিধি বলেন ব্রিটিশদের বিচার ব্রিটিশ আদালত করবে, চীনা আদালত নয়। এলিয়টের বিচারে অভিযুক্তরা খুবই লঘু শাস্তি পায়। ক্ষুব্ধ লিন এবার ম্যাকাও থেকে পর্তুগীজদের সহায়তায় ব্রিটিশদের তাড়ান। আগষ্ট মাসে, ব্রিটিশরা হংকং এ পালিয়ে যান। এদিকে বণিকরা দিনে দিনে চরম অসন্তোষের সীমায় পৌছুলে, তারা ব্রিটিশ সরকারকে চাপ দিতে থাকে চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার। পরের বছর জুন মাসে, এডমিরাল এলিয়টের নেতৃত্বে ইংরেজরা আক্রমণাত্মক অভিযান চালায়। এভাবে, প্রথম ইঙ্গ চীন যুদ্ধের সূচনা হয়।

এ কথা অবশ্যম্ভাবী যে, আফিমকে কেন্দ্র করেই এ যুদ্ধ শুরু হয়।তবে, শুধুমাত্র আফিমের জন্যেই এ যুদ্ধ সংঘটিত হয় নি বরং এটি ছিল একটি উপলক্ষ মাত্র। আসল কারন ছিল, বাণিজ্য! চীনের বাণিজ্য ছিল রুদ্ধদ্বার সামন্তবাদী আর বহিঃবিশ্ব হতে সম্পূর্ণ আলাদা। তাই, চীনকে এক হাত করতেই এ আফিম যুদ্ধের পায়তারা!
এছাড়াও, চীনের কাউটাউ প্রথা, নজরানা দেওয়া, প্রভৃতি প্রথাও ঔপনিবেশিকদের অসন্তোষের কারন ছিল। মূলকথা হলো, উপনিবেশবাদী লালসাই ছিল এ যুদ্ধের পেছনে নিহিত উদ্দেশ্য।

**প্রথম আফিম যুদ্ধ**

প্রথম আফিম যুদ্ধে চীনারা শোচনীয়রূপে পরাজিত হয়। ফলে, পাশ্চাত্য শক্তির সাথে কয়েকটি অসম চুক্তি করতে বাধ্য হয় চীন।
বৃটেনের সাথে নানকিং চুক্তি (১৮৪২) ও হুমেনের সন্ধি ( ১৮৪৩),  আমেরিকার সাথে ওয়াংশিয়া (১৮৪৪) এবং ফ্রান্সের সাথে হোয়াম্পার ( ১৮৪৪) সন্ধি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রুদ্ধদ্বার চীন এবার মুক্তদ্বার চীনে রূপান্তরিত হবে। ক্যান্টন ছাড়াও এময়, ফুচাও, নিংপো প্রভৃতি বন্দর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। হংকং বিদেশিদের হাতে চলে যায়। চীন পশ্চিমা দেশগুলোর সমপর্যায়ে চলে আসে। এভাবে,চীন আধা সামন্তবাদী আধা ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আফিমকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ করলেও চুক্তিতে আফিম সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই উল্লেখিত ছিল না। বরং, চোরাচালান আরো বৃদ্ধি পায়। হংকং আফিম বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ফলে চীনের আর্থিক ক্ষতি বহুগুনে বেড়ে যায়। এছাড়াও, চীন পণ্যগুলোর উপর শুল্ক আরোপ করার অধিকার হারায়। এতে, চীনের হস্তশিল্পের অধঃপতন হয়। চীন তার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হারায়।

**যুদ্ধের ফলাফল **

**নানকিং চুক্তি**
চীনের পরাজয়ের পর নানকিং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যেখানে অবাধে এবং প্রায় নিখরছে আফিমসহ অন্যান্য দ্রব্যের  চালানের বৈধতা দেওয়া হয়। এটিকে, আরো বৈধতা দেয়ার জন্যে পাঁচটি বন্দর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং হংকংকে গ্রেট ব্রিটেনের দেড়শ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়।

** তিয়ানজিন চুক্তি**

তথাকথিত দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধের পর এই চুক্তি ১৮৫৮ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এবার, চীনারা কেবল ব্রিটেন নয়,অন্যান্য পাশ্চাত্য শক্তির সকল অযাচিত দাবি ও শর্তাবলি মেনে নেয়। এই, ছাড়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলো, বেইজিং এ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়ার দূতাবাস খুলা যা ইতঃপূর্বে প্রায় অসম্ভব ছিল, কারন বেইজিং এ বিদেশিদের আবাসন নিষিদ্ধ ছিল।

**বেইজিং কনভেনশন **

দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি একটি নতুন চুক্তি নিয়ে আসে, যার পুরোটাই ছিল বাণিজ্য সুবিধা লুফে নেয়ার সিলমোহর স্বরূপ৷ এছাড়াও, এ চুক্তির মাধ্যমে খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের বৈধতা প্রদান করেছিল।

লেখিকাঃ ফারহীন ন্যান্সি।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 

Reflections

A decade went lamenting for you, A decade spent ranting about you, A series of decade has gone by blaming

Emancipation

Faulty stars in the sky leading to a faulty love story—well, stars were not deformed. It was our own fault—a

Racing Hearts

It was nice to know you. It’s a pleasure to meet you.  It’s sweet to kiss you.  But it’s horrendous

Addiction

You were not my love. You were merely just an addiction,  Talking with you over the phone, Fighting over

Circles

Love was a priority then. Happiness was destiny. But now love is not predestined. Sometimes it’s a mistake. But mistakes

Sabotage

I was standing on the brink of a montage. But you always end up bringing about sabotage! I overcame the